বটিয়াঘাটায় মাছের ঘেরের বেড়িতে ব্যতিক্রমী পদ্ধতিতে অফ-সিজন তরমুজ চাষে বাড়ছে কৃষকদের আগ্রহ। বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে সেচের প্রয়োজন কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম হচ্ছে। ফলে এ বছর তরমুজ চাষে ভালো লাভের আশা করছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে উপজেলার কিছু কৃষক তাদের উৎপাদিত তরমুজ বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। বর্তমানে প্রতি মণ তরমুজ ১ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে বটিয়াঘাটা উপজেলায় প্রায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে অফ-সিজন তরমুজ চাষ হয়েছিল। এ বছর কৃষকদের বাড়তি আগ্রহ ও সম্ভাবনাময় ফলনের কারণে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে অফ-সিজন তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
প্রচলিত মৌসুমে বিলের জমিতে তরমুজ চাষ করা হলেও অফ-সিজনে বটিয়াঘাটায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। মাছের ঘেরের ভেড়িতে তরমুজের বীজ রোপণ করে জাল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মাচা। গাছগুলো জাল বেয়ে ওপরে উঠে ছড়িয়ে পড়ছে এবং সেখানেই ঝুলে বড় হচ্ছে তরমুজ। নিচে চলছে মাছ চাষ, আর ঘেরের ওপরের অংশে উৎপাদিত হচ্ছে তরমুজ। একই জায়গার এমন বহুমুখী ব্যবহারে বাড়তি আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকরা।
কৃষকদের মতে, তরমুজ চাষে সেচের জন্য পানির ব্যবস্থা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তবে বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত বৃষ্টির কারণে কৃষকদের এ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। ঘেরের ভেড়ি ব্যবহার করায় আলাদা করে বড় জমি প্রস্তুতের প্রয়োজনও কম হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভের আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলার ভগবতীপুর এলাকার কৃষক শতদল সরকার বলেন, “এবার আবহাওয়া আমাদের অনুকূলে রয়েছে। বর্ষার কারণে পানির সমস্যা হচ্ছে না। তরমুজের ফলনও ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকে বিক্রি শুরু করেছেন। বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এবার অফ-সিজন তরমুজ চাষে ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।”
রায়পুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অসিত বিশ্বাস বলেন, “অফ-সিজন তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে এবং সফল উৎপাদন নিশ্চিত করতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে-ময়দানে থেকে নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছেন। জমি নির্বাচন, রোগবালাই দমন, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের এই উদ্যোগ সফল হলে এলাকায় অফ-সিজন তরমুজ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।
বটিয়াঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবু বকর সিদ্দিক বলেন, অফ-সিজন তরমুজ চাষ বটিয়াঘাটার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ঘেরের ভেড়ি ব্যবহার করে মাচা পদ্ধতিতে চাষ করায় কৃষকরা একই জায়গায় মাছের পাশাপাশি তরমুজ উৎপাদনের সুযোগ পাচ্ছেন।
খুলনা গেজেট/এনএম

